* এলএনজি সংকটে ১৫ বছরে ২৫ গুণ বিস্তার, নিয়ন্ত্রণ শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের
* এলপিজির প্রায় ৮৫ শতাংশ ব্যবসা বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে
* সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৩৩ লাখ টন এলপিজি বটলিং সক্ষমতা তৈরি হয়েছে
* ১২ কেজির প্রায় ২৭ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার ফিলিং করা সম্ভব
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দ্রুত বাড়ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার। পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ এবং শিল্প-কারখানায় গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকায় গৃহস্থালি ও শিল্প দুই খাতেই এলপিজি এখন প্রধান জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে। গত ১৫ বছরে দেশে এলপিজির বাজার প্রায় ২৫ গুণ সম্প্রসারিত হয়েছে, যা জ্বালানি খাতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমানে এলপিজির প্রায় ৮৫ শতাংশ ব্যবসা বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান কার্যত পুরো বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে বছরে প্রায় ৩৩ লাখ টন এলপিজি বটলিং সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে ১২ কেজির প্রায় ২৭ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার ফিলিং করা সম্ভব। তবে এই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার হচ্ছে না, ফলে চাহিদা বাড়লেও বাজারে মাঝে মাঝে সংকট দেখা দিচ্ছে।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন, আমদানি ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে পেট্রোবাংলা। আর এলপিজি আমদানি ও বাজারজাতকরণ তদারকি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি ও বটলিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ২৩টির নিজস্ব আমদানি টার্মিনাল রয়েছে, আর বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো স্যাটেলাইট ফিলিং পয়েন্ট ব্যবহার করে বাজারে এলপিজি সরবরাহ করছে।
সক্ষমতার দিক থেকে জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস শীর্ষে রয়েছে। বিএম এনার্জি, বসুন্ধরা, ওমেরা, ইউনিটেক্স, মেঘনা ফ্রেশ, পেট্রোম্যাক্সসহ বড় শিল্প গ্রুপগুলোর বিনিয়োগে খাতটি দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি ভোগ্যপণ্য খাতের অন্যতম বড় গ্রুপ সিটিও এলপিজি বাজারে প্রবেশ করেছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট এলপিজি উৎপাদন ও আমদানি হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৫২ হাজার টন। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে ১৫ লাখ টনেরও বেশি। আমদানিতে শীর্ষে ছিল ওমেরা, এরপর মেঘনা ফ্রেশ ও যমুনা স্পেসটেক। এক সময় বাজারে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা বসুন্ধরা গ্রুপের আমদানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বাজারের গতিপ্রকৃতি বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, এলসি জটিলতা, আমদানিতে দ্বৈত ভ্যাট, ঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত কঠোরতায় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। এর ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসে ভর্তুকির সুযোগ নিয়ে অবৈধ ক্রসফিলিং নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে বছরে ১৫ লাখ টনের বেশি এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যবহারের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ২৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত সহায়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে সামনে এলপিজি খাতে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এলসি জটিলতা, দ্বৈত ভ্যাট এবং আমদানির অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ না হলে বিনিয়োগে স্থবিরতা আসবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। তখন বাজারে সরবরাহ কমে দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা গৃহস্থালি থেকে শুরু করে শিল্প খাত পর্যন্ত চাপ বাড়াবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজিকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত না নিলে এই দ্রুত বর্ধনশীল খাতটি অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
এলপিজি গ্যাসের দখলে জ্বালানি বাজার
- আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:০০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৬ ০৯:৫৫:০০ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাহাঙ্গীর খান বাবু